দীর্ঘ তিন বছর পর নগরীর গল্লামারী মোড়ের ময়ূর নদের ওপর প্রথম সেতু দৃশ্যমান হয়েছে আরও তিন মাস আগে। কথা ছিল সেপ্টেম্বরের মধ্যেই যান চলবে সেতুতে। সেপ্টেম্বর শেষ হলেও সেতু ও সংযোগ সড়কের অনেক কাজ এখনও শেষ হয়নি। শেষ সময়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলোয় ধীরগতি দেখা দেওয়ায় অক্টোবরেও সেতু চালু হওয়ার সম্ভাবনা নেই।
সড়ক বিভাগ থেকে জানা গেছে, মূল সেতুর ওপর কংক্রিটের ঢালাই এবং দুই পাশের সংযোগ সড়কে বিটুমিনের কার্পেটিং করা হবে। আগামী ৬ অক্টোবর কংক্রিটের ঢালাইয়ের দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। ঢালাইয়ের পর ২৮ দিন কিউরিং (পানি দিয়ে ঢেকে রাখা) করা হবে। অর্থ্যাৎ মূল সেতুর কাজই শেষ হবে নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে। এর মধ্যে দুই পাশে কার্পেটিংসহ আনুষাঙ্গিক আরও কিছু কাজ রয়েছে। কাজের গতি না বাড়লে নভেম্বরেও কাজ শেষ হওয়া নিয়ে সংশয় রয়েছে।
প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, নগরীর গল্লামারী মোড়ে ময়ূর নদের ওপর পাশাপাশি দুটি সেতু হবে। ৬৮ দশমিক ৭ মিটার লম্বা ও ২৩ মিটার প্রশস্ত সেতু দুটির মূল অবকাঠামো হবে স্টিলের। দেখতে অনেকটা রাজধানীর হাতিরঝিলের আদলে নির্মাণাধীন সেতু দুটি নদী থেকে ৪ মিটার উচু হবে। সেতু নির্মাণের জন্য ২০২৩ সালের ১ অক্টোবর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ারিংকে (এনডিই) কার্যাদেশ দেয় সড়ক বিভাগ। চুক্তির আওতায় স্টিলের দুটি সেতু এবং সেতুতে যানবাহন ও পথচারীদের ওঠানামার জন্য দুই পাশে প্রায় ৭৫০ মিটার সংযোগ সড়ক নির্মাণ করতে হবে। ২০২৩ সালের ৮ অক্টোবর পুরাতন সেতুটি ভাঙার কাজ শুরু করে ঠিকাদার। ওই বছরই নতুন সেতুর কাজ শুরু হয়। কিš ধীরগতির কারণে তিনবছরে প্রথম সেতুর কাজ শেষ করতে পারেনি ঠিকাদার।
সরেজমিন দেখা গেছে, মূল সেতুর অবকাঠামো পুরোপুরি দৃশ্যমান। দুই পাশের সংযোগ সড়কের কাজও চলছে। তবে কাজে গতি কম। বর্তমানে পাশের ২১ ফুট প্রশস্ত একটি সেতু দিয়ে প্রতিদিন ১৫/২০ হাজার যানবাহন চলাচল করছে। এতে সেতুর দুই পাশেই তীব্র যানজট তৈরি হচ্ছে।
সড়ক বিভাগ খুলনার নির্বাহী প্রকৌশলী তানিমুল হক বলেন, সেতুর মূল কাজ শেষ। এখন শুধু ওপরে কংক্রিটের ঢালাই দেওয়া হবে। ঢালাইয়ের পর ২৮ দিন কিউরিংয়ের পর রোড মার্কিং করে যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হবে। আশা করছি ১৫ নভেম্বরের মধ্যে যান চলাচল করবে।
খুলনা গেজেট/এনএম

































